April 19, 2026, 11:15 am

বাচঁতে চায় ২ শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী শুভ, এরই মধ্য তাদের রেখে চলেগেছে পাষণ্ড বাবা

মতলব উত্তর প্রতিনিধি: মাত্র ৯ বছর বয়সের ছোট শিশু মো. শুভ মিয়া।
আইনুল কোরআন মাদ্রাসা দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। এই বয়সে যার স্কুলে যাবার কথা, বাড়ির সবার সাথে খেলাধুলা করার কথা। কিন্তু এখন সময় কাটছে হাসপাতালের বিছানায়। প্রাণচঞ্চল ফুটফুটে এই শিশুব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত। তার মাথার বাম দিকে ছিদ্র হয়ে পুঁজ বের হচ্ছে। এর আগে ৪বার অপারেশন করা হয়েছে একই জায়গায়। ডাক্তার বলেছে আবার অপারেশন করাতে হবে তাকে, না হলে বাঁচানো যাবে না তাকে। প্রতিদিন নিয়মিত ঔষধপত্র দিতে হয়। জন্মের পর থেকেই শিশু শুভ’র চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত তার মা রুজিনা আক্তার। বর্তমানে শুভ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল) নিউরো সার্জারী বিভাগের ৫নং গেইটের সি ব্লকের ৬নাম্বার বেডে ভর্তি আছে।

শিশু শিক্ষার্থী মো. শুভ মিয়া চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার বড় মরাধান গ্রামের মো. শাহীদ আলমের পুত্র। গত ২বছর আগে তার মা রুজিনা আক্তারকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যায় বিদেশে। আর খোঁজ খবর নেয় না শুভর বাবা মো. শহীদ আলম।
এখন অর্থের অভাবে দরিদ্র পরিবারের শিশুটির চিকিৎসা বন্ধের উপক্রম।

ছেলের ব্রেইন টিউমারের অপারেশন ও চিকিৎসা চালানোর সামর্থ নেই হতভাগ্য মা’র। শুভকে নিয়ে কাটছে নির্ঘুম রাত। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন শিশুটির চিকিৎসার জন্য প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা প্রয়োজন। তাই দরিদ্র মায়ের পক্ষে চিকিৎসার এত ব্যয় বহন করা একেবারেই অসম্ভব।
জানা গেছে, ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখানো হয় শিশু শুভকে। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশুটির ব্রেইন টিউমার ধরা পড়ে।
কান্না জড়িত কন্ঠে শিশুটির মা বলেন, আমার অবুঝ শিশুটার জন্য একটু সাহায্য করুন। এরপর কান্নায় ভেঙে পড়েন মা। শিশুটির চিকিৎসার খরচ জোগাতে সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তশালী মানুষের সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

আইনুল কোরআন মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা নুরুল আমিন মেধাবী শিশু শিক্ষার্থী শুভকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানসহ সকলকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি।
শিশু সাহায্য করতে আগ্রহীরা সরাসরি তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এই নাম্বারে ০১৩১৫৮৪১১৭৪।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা